চিকিৎসা নিয়েই যদি বলা যায়, তাহলে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা প্রচুর জনপ্রিয়।
সামান্য সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগের কথা উঠলেই অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার কথাই সবার আগে মনে পড়ে।
কিন্তু আপনি কি জানেন এই অ্যালোপ্যাথি ছাড়াও আরও অনেক চিকিৎসা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের নিরাময় করা সম্ভব।
আমরা জানি এলোপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি আরো অনেক চিকিৎসা শাস্ত্র রয়েছে। যেমন- আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি, ইউনানী, সিদ্ধা ইত্যাদি।
যদিও এইসব চিকিৎসা নিয়ে আমরা আলোচনা করব না। আমরা আলোচনা করব একটি নতুন চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে যার নাম প্রাকৃতিক চিকিৎসা। ইংরেজিতে যার নাম ন্যাচরোপ্যাথি (naturopathy)।
এই naturopathy অর্থাৎ প্রাকৃতিক চিকিৎসার মাধ্যমে ছোট থেকে বড় আকারের রোগের নিরাময় করা সম্ভব।
Naturopathy ভারত সরকারের অধীনস্থ আয়ুষ মন্ত্রণালয় (Ministry of AYUSH) দ্বারা সর্বভারতীয়ভাবে স্বীকৃত। এটির সম্পূর্ণ নাম হল Yoga & Naturopathy।
প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক চিকিৎসা এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে প্রকৃতির শক্তি ও শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করা হয়।
এখানে মূল লক্ষ্য হলো রোগের কারণ খুঁজে সেই কারণ দূর করা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো এবং শরীর, মন ও জীবনযাপনের সামগ্রিক যত্ন নেওয়া।
কোন পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক চিকিৎসা (Naturopathy treatment) করা হয়?
মানব শরীর পঞ্চম মহাভুত দিয়ে তৈরি অর্থাৎ মানব শরীরে পাঁচটি প্রধান উপাদান রয়েছে। যেমন আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথিবী।
আর যেহেতু এই চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে করা হয়, তাই আমাদের পৃথিবীতে অবস্থিত যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, তা দিয়েই বিভিন্নরোগকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রাকৃতিক চিকিৎসায় থেরাপি গুলির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল- খাদ্য ও পুষ্টি থেরাপি (Diet therapy), জল চিকিৎসা (Hydrotherapy), কাদা চিকিৎসা (Mud therapy), যোগ প্রানায়াম (Yoga & Pranayama), ম্যাসাজ থেরাপি, জীবনযাত্রা পরিবর্তন (Lifestyle change), প্রাকৃতিক ঔষধি (Natural medicine) ইত্যাদি।
কিভাবে প্রাকৃতিক চিকিৎসা কাজ করে?
প্রাকৃতিক চিকিৎসার মূলনীতি ৫টি —
Root Cause Treatment: শুধু উপসর্গ নয়, রোগের উৎস সমাধান।
Whole Body Approach: শরীর–মন–আত্মা—সকলের ভারসাম্য।
Preventive Care: রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ।
Toxic Removal: শরীর থেকে টক্সিন (বিষ) দূর করা।
প্রাকৃতিক চিকিৎসা কতটা নিরাপদ?
প্রাকৃতিক চিকিৎসা সবথেকে নিরাপদ তার কারণ:
১. কোন প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই এই চিকিৎসা মানব শরীরের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ।
২. কেমিক্যাল বা স্টেরয়েড নির্ভরতা কম। তার কারণ প্রকৃতিতে উৎপন্ন বিভিন্ন প্রকার বীজ, জুস এবং খাদ্যের মাধ্যমেই চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাই কেমিক্যাল সংক্রান্ত ওষুধ দেওয়ার কোন প্রয়োজন হয় না।
৩. সাধারণত আমাদের শরীরের উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলেই রোগ বাসা বাঁধে। তাই প্রাকৃতিক চিকিৎসা এই ভারসাম্যকে নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং রোগমুক্তি ঘটে।
কয়েকটি সতর্কতা:
১. গুরুতর বা জরুরি রোগে (হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, স্ট্রোক ইত্যাদি) শুধু Naturopathy যথেষ্ট নয়।
২. এক্সপার্ট গাইডলাইন ছাড়া চরম ডিটক্স ঝুঁকিপূর্ণ।
৩. যাদের দীর্ঘদিনের নির্দিষ্ট রোগ আছে, ডাক্তারি পরামর্শ জরুরি।
৪. গর্ভবতী নারী, বাচ্চা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দরকার।
সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইট/ব্লগ/প্রকাশনায় প্রকাশিত সকল তথ্য ন্যাচারোপ্যাথি ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা (Naturopathy & Naturopathy Treatment) সম্পর্কিত সাধারণ শিক্ষামূলক ও স্বাস্থ্য-সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এখানে দেওয়া কোনো তথ্যই চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্য-পরামর্শদাতার ব্যক্তিগত পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন, পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য-ইতিহাস এবং অন্যান্য চিকিৎসার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। তাই এখানে উল্লেখিত যেকোনো চিকিৎসা পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ভেষজ ব্যবহার, বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য–পরামর্শ গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত ন্যাচারোপ্যাথ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। এই সাইটে থাকা তথ্য, কোনো ওষুধ, থেরাপি, পরীক্ষা, রোগনির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু/বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অসুবিধা বা ক্ষতির জন্য লেখক, সম্পাদক বা প্রকাশক কোনোভাবেই দায় বহন করবে না। কোনো জরুরি বা প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যসমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি/নিবন্ধিত চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।